আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল | imf | international monetary fund | Nhrepon.com

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল



IMF এর পূর্ণ  রূপ  International Monetary Fund

১৯৪৪ সালের জুলাই মাসে ব্রেটন উড্স সম্মেলনে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয় ১৯৪৭ সালের ১লা মার্চ।

বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৮৮টি দেশ। সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত। এ সংস্থার নির্বাহী প্রধানের পদবি ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

আর্থিক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারের জন্য সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্থিতিশীল বিনিময় ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমস্যা সমাধানের জন্য আর্থিক সাহায্য প্রদান করা এবং কারিগরি সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন করা এ সংস্থার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ।

এর সাংগঠনিক কাঠামো গঠিত পরিচালক পর্ষদ, কার্যনিবাহী পরিচালকমণ্ডলী, প্রধান পরিচালক ও সচিবালয় নিয়ে। বর্তমানে IMF  এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন, ফ্রান্সের ক্রিস্তিন লাগার্দ (৫ জুলাই ২০১১ থেকে বর্তমান)

This is a short note on IMF.

WMF: World Monetary Fund






দাইউস (dayus) কাকে বলে? দাইউস এর পরিণতি কি ?

দাইউস

(dayus) 


দাইউসঃ-  দাইউস হলো সে ব্যক্তি যে কিনা তার পরিবার পরিজনকে সঠিক রাস্তায় পরিচালনা করেন না এবং পরিবার পরিজন সঠিক ভাবে না চললেও ভালো মনে করেন বা প্রতিবাদ করেন না। যে ব্যক্তি তার স্ত্রী-সন্তানদের বেপর্দা বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার সুযোগ দেয় তাকেও দাইউস বলা হয়।


 রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন যে, “আল্লাহ তিন ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম করেছেন। মাদকাসক্ত, পিতা-মাতার অবাধ্য এবং দাইউস, যে তার পরিবারের মধ্যে ব্যভিচারকে প্রশ্রয় দেয়” (মুসনাদে আহমাদ: ২/৬৯)


 কোরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমরা নিজেরা জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা কর এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর; যার উপর নিয়োজিত রয়েছেন কঠোর হৃদয় সম্পন্ন ফিরিশতাগণ, তারা আল্লাহ যা নির্দেশ করেন তা বাস্তবায়নে অবাধ্য হোন না, আর তাদের যা নির্দেশ প্রদান করা হয়, তা-ই তামিল করে’’।
( সূরা আত-তাহরীম: ৬)


 রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন : ‘দাইউস ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ) দাইউস কে? উত্তরে রাসুলূল্লাহ (সাঃ) বললেন, ‘যে ব্যক্তি তার পরিবারে আল্লাহ্‌র আদেশ-নিষেধ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কোন তৎপরতা অবলম্বন করে না বরং উপেক্ষা করে চলে।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, ‘দাইউস হল সে, যে তার পরিবারে বেহায়পনার বাস্তবায়নে সন্তষ্ট ও পরিতুষ্ট।’ (আহমদ)


 রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার দায়িত্বাধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, রাষ্ট্রনেতা তার প্রজাদের সম্পর্কে দায়িত্বশীল আর তাকে তাদের পরিচালনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। 

একজন পুরুষ লোক তার পরিবারের ব্যাপারে দায়িত্বশীল, তাকে তাদের পরিচালনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। একজন মহিলা তার স্বামীর ঘরের সার্বিক ব্যাপারে দায়িত্বশীলা, তাকে সেটার পরিচালনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। 

একজন পরিচারক তার মালিকের সম্পদের সংরক্ষক, আর তাকে সেটার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এক কথায় তোমরা সবাই দায়িত্বশীল আর সবাই জিজ্ঞাসিত হবে সে দায়িত্ব সম্পর্কে”। (বুখারী : ৭১৩৮; মুসলিম: ১৭০৫)





আদর্শ ছেলে | Adorsho chele - amader deshe hobe sei chele kobe | Nhrepon.com




আদর্শ ছেলে 

কুসুমকুমারী দাশ

আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
'মানুষ হইতে হবে'- এই তার পণ।

বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান
নাই কি শরীরে তব রক্ত, মাংস, প্রাণ?
হাত পা সবারই আছে, মিছে কেন ভয়?
চেতনা রয়েছে যার, সে কি পড়ে রয়?

সে ছেলে কে চাই বল, কথায় কথায়
আসে যার চোখে জল, মাথা ঘুরে যায়?
মনে প্রাণে খাট সবে, শক্তি কর দান,
তোমরা 'মানুষ' হলে দেশের কল্যাণ।










নবীর শিক্ষা | nobir shikkha | bangla kobita | nhrepon.com

নবীর শিক্ষা

শেখ হাবিবুর রহমান


তিন দিন হ'তে খাইতে না পাইনাই কিছু মোরে ঘরে,
সারা পরিবার বাড়িতে আমার উপোস করিয়া মরে।
নাহি পাই কাজ তাই ত্যাজি লাজ বেড়াই ভিক্ষা করি,
হে দয়াল নবীদাও কিছু মোরে নহিলে পরাণে মরি।


আরবের নবীকরুণার ছবি ভিখারির পানে চাহি,
কোমল কণ্ঠে কহিল, -'তোমার ঘরে কি কিছুই নাহি?
বলিল সে, 'আছে শুধু মোর কম্বল একখানি।'
কহিল রসুল, 'এক্ষণি গিয়া দাও তাহা মোরে আনি।'


সম্বল তার কম্বলখানি বেচিয়া তাহার করে,
অর্ধেক দাম দিলেন রসুল খাদ্য কেনার তরে,
বাকি টাকা দিয়া কিনিয়া কুঠারহাতল লাগায়ে নিজে,
কহিলেন, 'যাও কাঠ কেটে খাওদেখ খোদা করে কি-যে।'


সেদিন হইতে শ্রম সাধনায় ঢালিল ভিখারি প্রাণ,
বনের কাষ্ঠ বাজারে বেচিয়া দিন করে গুজরান।
অভাব তাহার রহিল না আরহইল সে সুখী ভবে,


নবীর শিক্ষা ক'রো না ভিক্ষা, মেহনত কর সবে।



যে প্রেম বিশ্ব জয় করতে জানে | nhrepon.com

যে প্রেম বিশ্ব জয় করতে জানে


মিশরের "লিমান তুররা" কারা হাসপাতালের চৌদ্দ শিকের দুইপাশে দাঁড়িয়ে বিয়ে হয়েছিলো দুজনের। বর একজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামী। অপরাধ অন্য কিছু নয়, মিশরের ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া। ১৯৫৪ সালে যাঁকে গ্রেফতার করে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে কিছুদিন পর ফাঁসি বাতিল করে যাবজ্জীবন দেয়া হয়। কনে খুব ভালো করেই জানতেন এখানে যাবজ্জীবন মানে ২৫ বছরের আগে মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। কারান্তরীণ ছেলের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর অনেক ভেবে তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হন।

বিয়ের কয়েকদিন পরের ঘটনা। সদ্য বিবাহিত এই যুবককে অমানবিক নির্যাতন করে "ক্বানা" নামক অন্য একটি কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হলো। এই "ক্বানা" কারাগারটি ছিলো রাজধানী কায়রো থেকে অনেক দূরের একটা জায়গা। যুবকের নবপরিণীতা বধু ননদকে সঙ্গে করে সেই কারাগারে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। পথিমধ্যে অনেক ভোগান্তি সহ্য করতে হলো দুজনকে। যুবকের বোন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলা শেষ করে ভাবিকে একান্তে কথা বলার সুযোগ করে দিলেন। যুবক তাঁর বধু ও বোনের পথিমধ্যে ভোগান্তির কথা জেনেছিলেন। তিনি অত্যন্ত আবেগ তাড়িত কণ্ঠে স্ত্রীকে বললেন, "দেখো, আমি আশাবাদী ছিলাম খুব অল্প দিনের মধ্যে হয়তো বের হতে পারবো। কিন্তু সেই সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ দেখতে পাচ্ছি। প্রেসিডেন্ট জামাল নাসের আমাদেরকে অফার করেছে, তাকে সাহায্য করলে সে আমাদের সসম্মানে মুক্তি দিয়ে দিবে। কিন্তু আমি বলে দিয়েছি, আমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেললেও আমি তার অন্যায় প্রস্তাবে রাজি হবো না। প্রিয়তমা, আমি তোমাকে একটা অনুরোধ করি। আমার কারাগার থেকে মুক্তি পেতে হয়তো আরও অন্তত দুই দশক লেগে যাবে। তোমার এতো কষ্ট আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আমার জন্য তোমার সুন্দর জীবনটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বরং তুমি এমন কাউকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করো যে তোমার পাশে সবসময় থাকতে পারবে। তোমার জীবনটাকে সুখে আনন্দে ভরিয়ে তুলতে পারবে।"

স্ত্রী স্বামীর কথা শুনলেন। কিন্তু তিনি কিছু বলার আগেই কারারক্ষীরা কারার লৌহকপাট বন্ধ করে দিলো। তিনি বাড়ি ফিরে গিয়ে স্বামীকে উদ্দেশ্য করে একটি কবিতা লিখলেন। যার কিয়দংশ ছিলো এরকম,
"নিরন্তর পথ চেয়ে বসে আছি,
শুধু তোমার জন্য।
নাহয় সে পথ হোক জিহাদের।
লাল পথ ধরে পায়ে পায়ে
যাই চলো জান্নাতের দ্বারে।
সেই ওয়াদার খাতিরে,
ভয় কি?
লজ্জা কি?
কিসের বা বেদনা আমার?"

অবশেষে প্রায় ২০ বছর পর ১৯৭৩ সালে সেই যুবক মুক্তি পেলেন। ততদিনে বার্ধক্য এসে ভীড় করেছে। বিয়ের ২০ বছর পর প্রথমবারের মতো মুক্ত পৃথিবীতে প্রিয়তমা স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলো। আল্লাহর দ্বীনকে ভালোবেসে জীবনের সবচেয়ে স্বর্ণ সময়গুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন থেকে যে দম্পতি ঈমানের এক অনন্যসাধারণ নজীর স্থাপন করলেন, মহাকালও হয়তো সেটা টুকে রাখলো। নীলনদের তীরে হয়তো বিশাল কোনো ঢেউ আঁচড়ে পড়ে সম্মান জানাতে চাইলো এ মজলুম দম্পতিকে। কায়রো শহরের পাখিগুলো হয়তো একবার কিচির মিচির ধ্বনি তুলে প্রকাশ করতে চাইলো তাদের আনন্দের কল্লোলিত বার্তা।

১৯৮১ সালের এক সন্ধ্যা। রাব্বুল আলামীন তাঁর প্রিয়তম এই বান্দা-বান্দীকে আরেকটু পরীক্ষা করে ঈমানের চুড়ান্ত মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ করে নিতে চাইলেন বোধহয়। মিশরের ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম এ সিপাহসালারকে পুনরায় গ্রেফতার করা হলো। সম্পূর্ণ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন অভিযোগে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শাহাদাৎ বরণ করানো হলো। শহীদের সম্মানিতা স্ত্রী এবার চিরদিনের মতো নিঃসঙ্গ হয়ে গেলেন। ১৯৮১ সালের ৬ নভেম্বর ভোরবেলা যে চুড়ান্ত নিঃসঙ্গ জীবনের যাত্রা শুরু হয়েছিলো, ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তার পরিসমাপ্তি ঘটলো। পরিসমাপ্তি ঘটলো একটি অনবদ্য অধ্যায়ের। এই মহীয়সী নারীর নাম আমিনা কুতুব। মিশরের ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষনেতা সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ (রহঃ) এর ছোটবোন। তাঁর স্বামী ইখওয়ানের অন্যতম নেতা শহীদ কামাল আল সানানিরী। আল্লাহকে যাঁরা সত্যিকার অর্থেই ভালোবাসতে পেরেছে, তাদের গল্পগুলো তো এমনই হবে। জাগতিক সব চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিকেষ আর ঠুনকো স্বার্থবাদী চিন্তাধারা তাদের পদতলে এসে লুটিয়ে পড়ে আর্তনাদ করে ফিরবে বারবার। আর আল্লাহর পথের সেনানীরা তার উপরে দাঁড়িয়ে উচ্চারণ করে যাবেন, "সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসৃত। আর মিথ্যা তো অপসৃত হবার জন্যই।" [সূরা বনী ইসরাইল-৮১]

"যে জীবন সাহসের আগ্নেয়গিরি"/ মু. লাবিব আহসান







collected from internet

পল্লি কবি জসীম উদ্দীন | Nhrepon.com

পল্লি কবি জসীম উদ্দীন

একজন বাঙালি কবি, গীতিকার, ঔপন্যাসিক ও লেখক।


Polli-kobi-josim-uddin



জন্ম: ১ জানুয়ারি ১৯০৩ খ্রী:

মৃত্যু: ১৩ মার্চ ১৯৭৬ খ্রী:

পূর্ণনাম: মোহাম্মাদ জসীম উদ্দীন মোল্লা।

জন্মস্থান: ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

বাবার নাম: আনসার উদ্দীন মোল্লা। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন।

মায়ের নাম: আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুট।

পারিবারিক পরিচিতি: তার বাবার বাড়ি ফরিদপুর জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।

শিক্ষা জীবন: জসীম উদ্দীন ফরিদপুর ওয়েলফার স্কুল ও পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলা স্কুলে পড়াশুনা করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে বি.এ এবং ১৯৩১ সালে এম.এ শেষ করেন।

উল্লেখযোগ্য রচনাবলি: নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট।

উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার


কাব্যগ্রন্থ:
রাখালী (১৯২৭
নকশী কাঁথার মাঠ (১৯২৯)
বালুচর (১৯৩০)
ধানখেত (১৯৩৩)
সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৪)
হাসু (১৯৩৮)
রুপবতি (১৯৪৬)
মাটির কান্না (১৯৫১)
এক পয়সার বাঁশী (১৯৫৬)
সকিনা (১৯৫৯)
সুচয়নী (১৯৬১)
ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে (১৯৬২)
মা যে জননী কান্দে (১৯৬৩)
হলুদ বরণী (১৯৬৬)
জলে লেখন (১৯৬৯)
পদ্মা নদীর দেশে (১৯৬৯)
কাফনের মিছিল (১৯৭৮)
মহরম
দুমুখো চাঁদ পাহাড়ি (১৯৮৭)


নাটক:
পদ্মাপার (১৯৫০)
বেদের মেয়ে (১৯৫১)
মধুমালা (১৯৫১)
পল্লীবধূ (১৯৫৬)
গ্রামের মেয়ে (১৯৫৯)
ওগো পুস্পধনু (১৯৬৮)
আসমান সিংহ (১৯৮৬)


আত্মকথা:
যাদের দেখেছি ((১৯৫১)
ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায় (১৯৬১)
জীবন কথা ( ১৯৬৪)
স্মৃতিপট (১৯৬৪)
স্মরণের সরণী বাহি (১৯৭৮)


উপন্যাস:
বোবা কাহিনী (১৯৬৪)
ভ্রমণ কাহিনী:
চলে মুসাফির (১৯৫২)
হলদে পরির দেশে ( ১৯৬৭)
যে দেশে মানুষ বড় (১৯৬৮)
জার্মানীর শহরে বন্দরে (১৯৭৫)


সঙ্গীত:
রঙিলা নায়ের মাঝি (১৯৩৫)
গাঙের পাড় (১৯৬৪)
জারি গান (১৯৬৮)
মুর্শিদী গান (১৯৭৭)








collected form wikipedia

SEO | Search Engine Optimization | Nhrepon.com

What is SEO?

In short: SEO mean Search Engine Optimization.


Search-Engine-Optimizaton


In details: The process of maximizing the number of visitors to a particular website by ensuring that the site appears high on the list of results returned by a search engine.



"the key to getting more traffic lies in integrating content with search engine optimization and social media marketing"



Search Engine Optimization (SEO) is the process of increasing the quality and quantity of website traffic, increasing visibility of a website or a web page to users of a web search engine.

SEO may target different kinds of search, including image search, video search, academic search, news search and industry-specific vertical search engines.

Optimizing a website may invole editing its content, adding content, modifying HTML, and associated coding to both increase its relevance to specific keywords and to remove barriers to the indexing activities of search engines. Promoting a site to increase the number of backlinks or inbound links is another SEO tactic.

On page SEO: 

On page seo is to be Proper coding for a site, Ensure content quality, Optimize title tag, Image and img tag, H tag, Meta tag, Robots.txt setting, Submit on search engine for indexing, Overall eye catching and user friendly content optimization.

Off page SEO:









Our School Magazine | Nhrepon.com


Our School Magazine

1.      What is a school magazine?
2.      How is the magazine committee formed?
3.      How are the editors elected?
4.      What is the function of a business editor?
5.      What does the magazine contain?
6.      What is the necessity of publishing a magazine?

A school magazine is the mirror of the literary works of the teachers and the students of the school. We are the students of a renowned school in the district of Noakhali. We publish a magazine every year from our school. We have magazine committee consisting of nine members they are three teachers and six students. The headmaster acts as the chief patron of the committee. The other two teachers act as adviser and proof-reader. The other editors are elected from among the students. Spaces are sold to the business concerns for advertising of their products. We have a magazine found to meet the necessary essays, poems, stories, short plays, riddles, jokes etc written by the teachers and the students. Our school magazine is a great boon to us. It helps us express our feelings and thoughts and develop our creative powers. We are proud of our school magazine.

Or,

Our School Magazine

1.      What is a school magazine?
2.      What is the importance of a school magazine?
3.      Who keeps role to publish a school magazine?
4.      What is your role in your school magazine?

A school magazine is one kind of journal which contains mainly the articles of the students and teachers. It is published annually or Monthly. The editor of a school magazine is a teacher and the sub-editors are always chosen from the students. A school magazine plays an important role for the students. It helps to express the students  feelings and creative powers. It encourages students to think for themselves, to organize their information into knowledge and to take an active interest in all that is going on around them. The magazine committee may hold periodical competitions in poetry, short stories and essays and select the best of there for publication. I am an active partner in our school magazine and write articles and poems for our school magazine.


হযরত আদম (আলাইহিস সালাম) | Nhrepon.com

হযরত আদম (আলাইহিস সালাম) 

Md-Nur-Hossain-repon
হযরত আদম (আ:) | Nhrepon


বিশ্ব ইতিহাসে প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী হিসাবে আল্লাহ পাক আদম (আলাইহিস সালাম)-কে নিজ দু’হাত দ্বারা সরাসরি সৃষ্টি করেন (ছোয়াদ ৩৮/৭৫)। মাটির সকল উপাদানের সার-নির্যাস একত্রিত করে আঠালো ও পোড়ামাটির ন্যায় শুষ্ক মাটির তৈরী সুন্দরতম অবয়বে রূহ ফুঁকে দিয়ে আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন।


অতঃপর আদমের পাঁজর থেকে তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টি করেন।[2] আর এ কারণেই স্ত্রী জাতি স্বভাবগত ভাবেই পুরুষ জাতির অনুগামী ও পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট। অতঃপর স্বামী-স্ত্রীর মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে একই নিয়মে মানববংশ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।

আবদুল মুত্তালিব | সাহাবীদের জীবনী

আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) এর জীবনী

sahabider-jiboni

আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব | সাহাবীদের জীবনী

নাম আবুল ফজল আব্বাস। পিতা আবদুল মুত্তালিব, মাতা নাতিলা, মতান্তরে নাসিলা বিনতু খাব্‌বাব। রাসূলুল্লাহর সা. চাচা। তবে দু’জন ছিলেন প্রায় সমবয়সী। ঐতিহাসিকদের ধারণা, সম্ভবতঃ তিনি রাসূলুল্লাহর সা. দুই বা তিন বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

ছোট বেলায় একবার তিনি হারিয়ে যান। মা মান্নত মানেন, আব্বাস ফিরে এলে কা’বায় রেশমী গিলাফ চড়াবেন। কিছু দিন পর তিনি সহি-সালামতে ফিরে এলে অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে আবদুল মুত্তালিব তাঁর মান্নত পুরা করেন।

জাহিলী যুগে তিনি ছিলেন কুরাইশদের একজন প্রতাপশালী রঈস। পুরুষানুক্রমে খানায়ে কা’বার রক্ষণাবেক্ষণ ও হাজীদের পানি পান করানোর দায়িত্ব লাভ করেন।

রাসূলুল্লাহ সা. নবুওয়াত লাভ করলেন। মক্কায় প্রকাশ্যে তিনি তাওহীদের দাওয়াত দিতে লাগলেন। হযরত আব্বাস যদিও দীর্ঘ দিন যাবত প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করেননি, তবে তিনি এ দাওয়াতের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।


এ কারণে মদীনার বাহাত্তর জন্য আনসার হজ্জের মওসুমে মক্কায় গিয়ে মিনার এক গোপন শিবিরে যে দিন রাসূলুল্লাহকে সা. মদীনায় হিজরাতের আহবান জানান এবং তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন, সেই গোপন বৈঠকেও হযরত আব্বাস উপস্থিত ছিলেন। তখনও তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি। ইতিহাসে এ বাইয়াতকে আকাবার দ্বিতীয় শপথ বলা হয়। এ উপলক্ষে তিনি উপস্থিত মদীনাবাসীদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত এক ভাষণে বলেনঃ ‘খাযরাজ কাওমের লোকেরা! আপনাদের জানা আছে, মুহাম্মাদ সা. স্বীয় গোত্রের মধ্যে সম্মান ও মর্যাদার সাথেই আছেন। শত্রুর মুকাবিলায় সর্বক্ষণ আমরা তাঁকে হিফাজত করেছি। এখন তিনি আপনাদের নিকট যেতে চান। যদি আপনারা জীবন পণ করে তাঁকে সহায়তা করতে পারেন তাহলে খুবই ভালো কথা। অন্যথায় এখনই সাফ সাফ বলে দিন।’ জবাবে মদীনাবাসীগণ পরিপূর্ণ সহায়তায় আশ্বাস দান করেন। এর অল্পকাল পরেই রাসূলুল্লাহ মদীনায় হিজরাত করেন।


মক্কার কুরাইশদের চাপের মুখে বাধ্য হয়ে তিনি কুরাইশ বাহিনীর সংগে বদর যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা. অবহিত ছিলেন, এ কারণে তিনি সাহাবীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, ‘যুদ্ধের সময় আব্বাস বা বনু হাশিমের কেউ সামনে পড়ে গেলে তাদের হত্যা করবে না। কারণ, জোরপূর্বক তাদের রণক্ষেত্রে আনা হয়েছে।’


বদর যুদ্ধে অন্যান্য কুরাইশ মুশরিকদের সাথে আব্বাস, আকীল ও নাওফিল ইবন হারিস মুসলমানদের হাতে বন্দী হন। ঘটনাক্রমে, আব্বাসকে এত শক্তভাবে বাঁধা হয় যে, ব্যথায় তিনি কঁকাতে থাকেন। তাঁর সে কঁকানি রাসূলুল্লাহর সা. রাতের আরামে বিঘ্ন ঘটায়। একথা সাহাবায়ে কিরাম অবগত হলে তাঁরা আব্বাসের বাঁধন ঢিলা করে দেন। আব্বাস কঁকানি বন্ধ করে দিলেন। রাসূল সা. জিজ্ঞেস করলেনঃ কঁকানি শোনা যায় না কেন? বলা হলোঃ বাঁধন ঢিলা করে দেওয়া হয়েছে। তখুনি রাসূল সা. নির্দেশ দিলেন সকল বন্দীর বাঁধন ঢিলা করে দাও।


বদরের যুদ্ধবন্দীদের কাছে অতিরিক্ত কাপড় ছিল না। রাসূল সা. সকলকে পরিধেয় বস্ত্র দিলেন। হযরত আব্বাস ছিলেন দীর্ঘদেহী। কোন ব্যক্তির জামা তাঁর গায়ে লাগছিল না। আব্বাসের মত দীর্ঘদেহী ছিল মুনাফিক আবদুল্লাহ বিন উবাই। সে একটি জামা আব্বাসকে দান করে। এ কারণে মুনাফিক হওয়া সত্ত্বেও আবদুল্লাহ বিন উবাইয়ের মৃত্যুর পর পুত্রের অনুরোধে রাসূল সা. নিজের একটি জামা তার লাশের গায়ে পরানের জন্য দান করেন। এভাবে তিনি চাচার প্রতি কৃত ইহসান পরিশোধ করেন।


বদর যুদ্ধের কয়েদীদের মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো। আব্বাসের জননী ছিলেন মদীনার আনসার-গোত্র খাযরাজের কন্যা। এ কারণে এ গোত্রের লোকেরা রসূলুল্লাহর সা. নিকট নিবেদন করলো, আব্বাস আমাদের ভাগ্নে। আমরা তাঁর মুক্তিপণ মাফ করে দিচ্ছি। কিন্তু সাম্যের পরিপন্থী হওয়ায় এ প্রস্তাব আল্লাহর রাসূলের নিকট গ্রহণযোগ্য হলো না। পক্ষান্তরে আব্বাস সম্পদশালী ব্যক্তি হওয়ার কারণে রাসূল সা. তাঁর নিকট মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবী করেন।

আব্বাস এত বেশী অর্থ আদায়ে অক্ষমতা প্রকাশ করে বলেনঃ অন্তর থেকে আমি আগেই মুসলমান হয়েছিলাম। মুশরিকরা এ যুদ্ধে অংশ নিতে আমাকে বাধ্য করেছে। রাসূলুল্লাহ সা. বললেনঃ অন্তরের অবস্থা আল্লাহ জানেন। আপনার দাবী সত্য হলে আল্লাহ তার বিনিময় দেবেন। তবে বাহ্যিক অবস্থার বিচারে আপনাকে কোন প্রকার সুবিধা দেওয়া যাবে না। আর মুক্তিপণ আদায়ে আপনার অক্ষমতাও গ্রহণযোগ্য নয়।
কারণ, আমি জানি, মক্কায় উম্মুল ফজলের নিকট আপনি মোট অংকের অর্থ রেখে এসেছেন। বিস্ময়ের সাথে আব্বাস বলে উঠলেন, আল্লাহর কসম, আমি ও উম্মুল ফজল ছাড়া আর কেউ এ অর্থের কথা জানে না। আমার নিশ্চিত বিশ্বাস আপনি আল্লাহর রাসূল। অতঃপর তিনি নিজের, ভ্রাতুষ্পুত্র আকীল ও নাওফিল ইবন হারিসের পক্ষ থেকে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করে মুক্তি লাভ করেন।

আব্বাসের একটা দীর্ঘ সময় মক্কায় অবস্থান এবং প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা না দেওয়ার পশ্চাতে একা বিশেষ কারণ ছিল। তিনি সব সময় মক্কা থেকে কাফিরদের গতিবিধি রাসূলুল্লাহকে সা. অবহিত করতেন। তাছাড়া মক্কায় যেসব দুর্বল ঈমানের মুসলমান তখনো অবস্থান করছিল, তিনি ছিলেন তাদের ভরসাস্থল। এ কারণে একবার রাসূরুল্লাহর সা. নিকট হিজরাতের অনুমতি চাইলে তাঁকে এই বলে বিরত রাখেন যে, ‘আপনার মক্কায় অবস্থান করা শ্রেয়। যেভাবে আল্লাহ আমার উপর নবুওয়াত সমাপ্ত করেছেন তেমনি আপনার উপর হিজরাত সমাপ্ত করবেন।’

মক্কা বিজয়ের কিছুদিন পূর্বে হযরত আব্বাস হিজরাতের অনুমতি লাভ করেন। সপরিবারে রাসূলুল্লাহর সা. খিদমতে হাজির হয়ে প্রকাশ্যে ইসলামের ঘোষণা দেন এবং স্থায়ীভাবে মদীনায় বসবাস শুরু করেন। তিনি মক্কা বিজয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। হুনাইন অভিযানে রাসূলুল্লাহর সা. সাথে একই বাহনে আরোহী ছিলেন। তিনি বলেনঃ এ যুদ্ধে কাফিরদের জয় হলো এবং মুসলিম মুজাহিদরা বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়লো, রাসূল সা. বললেন, ‘আব্বাস, তীরন্দাজদের আওয়ায দাও।’ স্বভাবগতভাবেই আমি ছিলাম উচ্চকণ্ঠ। আহ্‌বান জানালামঃ আইনা আসহাবুল সুমরা’- তীরন্দাজরা কোথায়? আমার এই আওয়াযে মুহূর্তের মধ্যে যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেল। তায়েফ অবরোধ, তাবুক অভিযান এবং বিদায় হজ্জেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন।

বিদায় হজ্জ থেকে ফেরার পর রাসূল সা. অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিন দিন অসুস্থতা বাড়তে থাকে। হযরত আলী, হযরত আব্বাস ও বনী হাশিমের অন্য লোকেরা রাসূলুল্লাহর সা. সেবার দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। ওফাতের দিন হযরত আলী বাড়ীর বাইরে এলেন। লোকেরা জিজ্ঞেস করলোঃ রাসূলুল্লাহর সা. অবস্থা কেমন? যেহেতু সে দিন অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল, এ কারণে তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহর অনুগ্রহে একটু ভালো।’
 কিন্তু হযরত আব্বাস ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যক্তি। তিনি আলীর একটি হাত ধরে বললেনঃ ‘তুমি কী মনে করেছো? আল্লাহর কসম, তিন দিন পরেই তোমরা গোলামী করতে শুরু করবে। আমি দিব্য চোখে দেখতে পাচ্ছি এ রোগেই অল্প দিনের মধ্যেই রাসুলুল্লাহ সা. ইনতিকাল করবেন। আমি আবদুল মুত্তালিব খান্দানের লোকদের চেহারা দেখেই তাদের মৃত্যু আন্দাজ করতে পারি।’


ঐ দিন রাসূল সা. ইনতিকাল করেন। হযরত আলী ও বনী হাশিমের অন্যান্যদের সহযোগিতায় হযরত আব্বাস কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করেন। যেহেতু তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহর সা. সম্মানিত চাচা এবং বনী হাশিমের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি, এ কারণে বহিরাগত লোকেরা তাঁর নিকট এসে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করতে থাকে।


হযরত রাসূলে কারীম সা. চাচা আব্বাসকে খুব সম্মান করতেন। তাঁর সামান্য কষ্টতেও তিনি দারুণ দুঃখ পেতেন। একবার কুরাইশদের একটি আচরণ সম্পর্কে হযরত আব্বাস অভিযোগ করলে রাসূল সা. অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে বললেনঃ ‘সেই সত্তার শপথ, যর হাতে আমার জীবন! যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের জন্য আপনাদের ভালবাসেনা তার অন্তরে ঈমানের নূর থাকবে না।’


একবার রাসূল সা. এক বৈঠকে আবু বকর ও উমারের রা. সাথে কথা বলছিলেন। এমন সময় আব্বাস উপস্থিত হলেন। রাসূল সা. তাঁকে নিজের ও আবু বকরের মাঝখানে বসালেন এবং কণ্ঠস্বর একটু নীচু করে কথা বলতে লাগলেন। আব্বাস চলে যাওয়ার পর আবু বকর রা. এমনটি করার কারণ জেজ্ঞেস করলেন। রাসূল সা. বলেনঃ ‘মর্যাদাবান ব্যক্তিই পারে মর্যাদাবান ব্যক্তির মর্যাদা দিতে।’ তিনি আরো বলেনঃ ‘জিবরীল আমাকে বলেছেন, আব্বাস উপস্থিত হলে আমি যেন আমার স্বর নিচু করি, যেমন আমার সামনে তোমাদের স্বর নিচু করার নির্দেশ তিনি দিয়েছেন।’


হযরত রাসূলে করীমের সা. পর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীন হযরত আব্বাসের যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়েছেন। হযরত উমার ও হযরত উসমান রা. ঘোড়ার উপর সওয়ার হয়ে তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাঁর সম্মানার্থে ঘোড়া থেকে নেমে পড়তেন এবং বলতেনঃ ‘ইনি হচ্ছেন রাসূলুল্লাহর সা. চাচা।’ হযরত আবু বকর রা. একমাত্র আব্বাসকেই নিজে আসন থেকে সরে গিয়ে স্থান করে দিতেন।

হযরত আব্বাস ৩২ হিজরীর রজব/মুহাররম মাসের ১২ তারিখ ৮৮ (অষ্টাশি) বছর বয়সে ইনতিকাল করেন। তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান রা. জানাযার নামায পড়ান এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রা. কবরে নেমে তাঁকে সমাহিত করেন। মদীনার বাকী গোরস্তানে তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি ইসলাম গ্রহণের পর ৩২ বছর এবং জাহিলী যুগে ৫৬ বছর জীবন লাভ করেন।

জাহিলী যুগে হযরত আব্বাস রা. অত্যন্ত সম্পদশালী ছিলেন। এ কারণে বদর যুদ্ধের সময় রাসূল সা. তাঁর নিকট থেকে মুক্তিপণ স্বরূপ বিশ উকিয়া স্বর্ণ গ্রহণ করেন। ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল তাঁর জীবিকার উৎস। সুদের কারবারও করতেন। মক্কা বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত এ কারবার চালু ছিল। দশম হিজরীর বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক ভাষণে রাসূল সা. বলেনঃ ‘আজ থেকে আরবের সকল প্রকার সুদী কারবার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো এবং সর্বপ্রথম আমি আব্বাস ইবন আবদিল মুত্তালিবের সুদী কারবার রহিত ঘোষণা করছি।’

সুদের কারবার বন্ধ হওয়ার পর রাসূল সা. গণীমতের এক পঞ্চমাংশ ও ফিদাক বাগিচার আমদানী থেকে তাঁকে সাহায্য করতেন। রাসূলুল্লাহর সা. ওফাতের পর তিনি ও হযরত ফাতিমা প্রথম খলীফার নিকট রাসূলুল্লাহর সা. উত্তরাধিকার দাবী করেন। নবীরা কোন উত্তরাধিকার রেখে যান না- এ সম্পর্কিত রসূলুল্লাহর সা. একটি বাণী হযরত আবু বকরের রা. মুখ থেকে শোনার পর তাঁরা নীরব হয়ে যান।


হযরত আব্বাস ছিলেন অত্যন্ত দানশীল। অতিথি পরায়ণ ও দয়ালু। হযরত সাদ ইবন আবী ওয়াক্‌কাস রা. বলেনঃ ‘আব্বাস হলেন আল্লাহর রাসূলের চাচা, কুরাইশদের মধ্যে সর্বাধিক দরাজ হস্ত এবং আত্মীয় স্বজনের প্রতি অধিক মনোযোগী’। তিনি ছিলেন কোমল অন্তর বিশিষ্ট। দুআর জন্য হাত উঠালেই চোখ থেকে অশ্রুর বন্যা বয়ে যেত। এ কারণে তাঁর দুআয় এক বিশেষ আছর পরিলক্ষিত হতো।’

রাসূলুল্লাহ সা. আব্বাস রা. ও তাঁর সন্তানদের জন্য দুআ করেছেন। তিনি তাঁদের সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অপরাধের মাগফিরাত কামনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সা. থেকে তিনি বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে বহু সাহাবী ও তাবেয়ী হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হযরত আব্বাসের মধ্যে কাব্য প্রতিভাও ছিল। হুনাইন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তিনি একটি কবিতায় ব্যক্ত করেছেন। তার কয়েকটি পংক্তি ‘আল-ইসতিয়াব’ ও ইবন ইসহাকের সীরাত গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে।

লেখক: মুহাম্মাদ আব্দুল মা’বুদ

উৎস: আসহাবে রাসূলের জীবনকথা

অনুলিখন: এম.এ. ইমরান




collected from:  waytojannah.com