Showing posts with label রহস্য. Show all posts
Showing posts with label রহস্য. Show all posts

মেয়েদের প্যান্টিতে কেন থাকে ছোট পকেটের মত অংশ?

 

নারীদের প্যান্টিতে থাকে ছোট্ট একটি অংশ, যা অনেকটাই পকেটের মত দেখতে। এই ছোট্ট পকেটের মতো অংশটিকে বলা হয় ‘গাসেট’। কিন্তু অন্তর্বাসে কেন থাকে এই অংশ?

মহিলারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে মেয়েদের অন্তর্বাসের ভিতরে একটি ছোট পকেট থাকে। তাদের অন্তর্বাসের ভিতরে তৈরি করা হয় এই পকেট। অনেকেই মনে করেন মহিলাদের অন্তর্বাসে পকেটের ব্যবহার কী। আসুন এর কারণটা জেনে নেওয়া যাক।

ডিজাইন ও স্টাইল ছাড়াও মানুষের পরিধানের জন্য যে পোশাক তৈরি করা হয় তা আরাম ও পরিচ্ছন্নতার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। তাই আমাদের পোশাকে দেখা ছোট ছোট জিনিসের পেছনে অনেক কারণ লুকিয়ে থাকে, যা অনেক সময় আমরা জানি না। এমনই একটি পোশাক হল অন্তর্বাস।

১) মহিলারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে মেয়েদের অন্তর্বাসের ভিতরে একটি ছোট পকেট থাকে। তাদের অন্তর্বাসের ভিতরে তৈরি করা হয় এই পকেট। অনেকেই মনে করেন মহিলাদের অন্তর্বাসে পকেটের ব্যবহার কী। আসুন এর কারণটা জেনে নেওয়া যাক।

২) মহিলাদের গোপনাঙ্গ এমন একটি অংশ যেখানে খুব তাড়াতাড়ি সংক্রমণ হতে পারে। সেজন্য অন্তর্বাস এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে পরলে কোনও অস্বস্তি না হয় এবং তাদের স্বাস্থ্যের ওপর কোনও খারাপ প্রভাব না পড়ে। মহিলাদের অন্তর্বাসের গোপন পকেট আসলে পকেট হিসাবে কাজ করে না।
৩) অন্তর্বাসের নীচে একটি পৃথক কাপড় প্রয়োগ করা হয় যা আরও আর্দ্রতা শোষণ করে। প্রায়শই এই কাপড়টি তুলো দিয়ে তৈরি হয়। এই কারণে, গোপনাঙ্গ দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং শরীরের নীচের অংশে পর্যাপ্ত বাতাস পৌঁছায়, যা দাদ বা ত্বক সম্পর্কিত অন্য কোনও সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

৪) পুরুষদের অন্তর্বাসেও এমন কাপড় থাকে। এই কাপড় আর্দ্রতা শোষণ করে, যা সংক্রমণের ঝুঁকিও কমায়। অন্যদিকে সিনথেটিক দিয়ে তৈরি আন্ডারওয়্যার কাপড় ও ত্বকের মধ্যে ঘর্ষণ কমায় না, ফলে ক্ষত হওয়ার আশঙ্কা যেমন বাড়ে, তেমনি গোপনাঙ্গের আর্দ্রতাও দ্রুত নষ্ট হয় না, যা ত্বকের সমস্যার আশঙ্কা বাড়ায়।
৫) এমনকি এই অন্তর্বাসেও তুলার পকেটের মতো কাপড় প্রয়োগ করা হয়। পুরুষদের অন্তর্বাসেও কখনও কখনও পি-হোলের উপরে একটি আলাদা কাপড় থাকে, যা মহিলাদের অন্তর্বাসে তৈরি পকেট হিসাবে কাজ করে। এটি গোপনাঙ্গকে আরাম দেয় এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

মূলত নারী যৌনাঙ্গের স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য প্যান্টিতে তৈরি করা হয় পকেটের মত অংশ গাসেট

গাসেটে-এর কাজ কী? অন্তর্বাসের বাকি অংশ নানা কৃত্রিম উপাদানে তৈরি হলেও এই গাসেট তৈরি হয় সুতি, তুলো কিংবা ভিতর দিয়ে সহজেই হাওয়া চলাচল করতে পারে, এমন ফ্যাব্রিক দিয়ে।

যৌনাঙ্গ ও পারিপার্শ্বিক অঞ্চলে ঘাম, আর্দ্রতা, অন্যান্য গ্রন্থির ক্ষরণ ও ময়লার মতো পদার্থ জমা খুব স্বাভাবিক। আর ময়লাতেই জন্ম নেয় ব্যাকটেরিয়া। প্যান্টিতে থাকা গাসেট-এর মত অংশ আর্দ্রতা শোষণ করে, বায়ু চলাচল করতে দেয়। ফলে, জীবাণুর সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই কমে।

যেহুতু গাসেট সবসময় সুতি, তুলো কিংবা ভিতর দিয়ে সহজেই হাওয়া চলাচল করতে পারে, এমন ফ্যাব্রিক দিয়ে তৈরি হয়, ফলে অন্তর্বাসের কৃত্রিম উপাদানের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে যৌনাঙ্গে ক্ষত তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমে

যে দেশের সী-বিচে নগ্ন হওয়ার আইন আছে

আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণ ডাবলিনে চালু হতে যাচ্ছে হাক ক্লিফ বিচ। যাকে বলা হচ্ছে প্রথম ন্যুড বিচ বা নগ্ন সৈকত। 
অর্থাৎ সেখানে গিয়ে মানুষ নগ্ন হয়ে গোসল করার সুযোগ পাবে।
 উদ্যোক্তারা বলছেন, এই সৈকতে থাকবে সূর্য, বালু ও সমুদ্র কিন্তু থাকবে না কোনো বাথিং স্যুট।

এই নিয়ে যারা প্রচারণা চালিয়ে আসছিল সেই আইরিশ ন্যাচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ফ্যাট গ্যালাঘের বলেন, ন্যাকেড বিচ আয়ারল্যান্ডে ধারণার চেয়েও বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। 
কারণ আইন-সম্মতভাবে নগ্ন সৈকতের দাবিতে কয়েক বছর ধরে প্রচারণা ছিল। 
এরপর একটি বিলের মাধ্যমে ২০১৭ সালে স্থানীয় কাউন্টি অফিস নগ্ন গোসলের পক্ষে লোকজনের সাক্ষর সংগ্রহ করে।

তবে ওই সৈকতে সেখানে শিশুদের উপস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কোনো সংগঠন। 
এ বিষয়ে গ্যালাঘের ভাষ্য, এটা মোটেই কোনো পারিবারিক সৈকত নয়। 
এখানে অবশ্যই শিশুদের নেয়া ঠিক হবে না। তাদের জন্য এটা বিপদজনক হবে। 
কোনো শিশুকে সেখানে নিলে নজর রাখতে হবে। 
কারণ সেটি সাধারণ কোনো সৈকত হবে না।

গ্যালাঘের আরও বলেন, "আমরা শুধু কোনো আকর্ষণীয় সৈকতে যাচ্ছি না। 
আমরা আমাদের গাড়ি রেখে সেখানে যাবো, সেখানে আরোহণ করবো, বালুতে সময় কাটাবো এবং অন্য কেউ হয়তো সেখানে যেতে চাইবে না।


  বিবিসির খবর।
(তথ্যটি সংগৃহীত)

রহস্যময় দ্বীপ সেন্টিনেল

সেন্টিনেল দ্বীপ
সেন্টিনেল দ্বীপ

পৃথিবীতে এমন কিছু স্থান রয়েছে যেগুলিকে আধুনিক প্রযুক্তি দিয়েও জয় করা সম্ভব হয়নি। এরকমই একটি দ্বীপ হলো সেন্টিনেল দ্বীপ। এই রহস্যময় দ্বীপটি বঙ্গপোসাগরের বুকে অবস্থিত। নৃতাত্বিকদের মতে, প্রায় ৬০ হাজার বছর পূর্বে দ্বীপটি তৈরি হয়েছিল। এই দ্বীপটির আয়তন ৭২ বর্গকিলোমিটার।

কাগজে কলমে দ্বীপটি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হলেও দ্বীপটির উপর ভারতের কোনো রকম কর্তৃত্ব নেই। ভারত সরকার বহুবার চেষ্টা করেও দ্বীপটি সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে পারেনি। আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, তারা দ্বীপটিতে ঢুকতেই পারেনি। এর একমাত্র কারণ হলো দ্বীপটিতে বসবাসরত অধিবাসীরা। দ্বীপটিতে কতোজন মানুষ বাস করে তার সঠিক কোনো হিসাবও পাওয়া যায়নি।
২০০১ সালে সরকারীভাবে দ্বীপটির ব্যাপারে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে সে চেষ্টা অসম্পূর্ণই রয়ে গেছে। অসম্পূর্ণ সেই পরিসংখ্যানে মাত্র ৩৯ জন বাসিন্দার উল্লেখ পাওয়া যায় দ্বীপটিতে। সেন্টিনেল দ্বীপের বসবাসরত অধিবাসীদের সেন্টিনাল জনগোষ্ঠী বলা হয়। এরা সভ্যতার আলো হতে দূরে থাকা এক শিকারী জনগোষ্ঠী। এরা ঠিক কোন ভাষায় কথা বলে তাও জানা যায়নি। ধারণা করা হয় এদের ভাষার সঙ্গে আন্দামানিক ভাষাগুলির মিল রয়েছে বলে জানা গেছে।

এই দ্বীপটির বাসিন্দারা প্রচণ্ড হিংস্র ও আদিম মানসিক্তার। এদের নিষ্ঠুরতার অনেক কাহিনীও শোনা যায়। শোনা যায়, ২০০৬ সালে দুই জেলে ভুলক্রমে নাকি ওই দ্বীপে ঢুকে পড়ে। দ্বীপের অধিবাসীরা তাদের মেরে ফেলে। জেলেদের উদ্ধারে পাঠানো হেলিকপ্টার হতে তাদের লাশ দেখা গিয়েছিল। এমনকি দ্বীপের অধিবাসীরা হেলিকপ্টার লক্ষ্য করেও তীর ছোড়া শুরু করে! যে কারণে জেলেদের উদ্ধার না করেই শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টারটি ফেরত আসতে বাধ্য হয়।
এই দ্বীপের বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বহুদিন ধরে। ১৯৬৭ সালে প্রথম ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দ্বীপের বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা শুরু করে। ভারতের ট্রাইবাল ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক টিএন পন্ডিতের নেতৃত্বে ওই সময় চেষ্টা শুরু করা হয়। যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা হিসেবে দ্বীপটির তীরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপহার রেখে আসা হতো। যেমন , খাবার- পোশাক ইত্যাদি।

তাতেও তাদের হিংস্র মানসিকতার কোনো রকম পরিবর্তন হয়নি। দ্বীপের কাছে কোনো নৌকা বা উপরে কোনো হেলিকপ্টার দেখলেই তীর, পাথর কিংবা বর্শা জাতীয় অস্ত্র ছুড়ে মারতো তারা। ১৯৯০ সালের দিকে মধ্য আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে বসবাসরত এরকমই একটি জনগোষ্ঠী “জারওয়া”দের সঙ্গে এক সংঘর্ষে বহিরাগত কিছু মানুষ প্রাণ হারান।
ওই ঘটনার পর ভারত সরকার সেন্টিনেল দ্বীপের বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা বন্ধ করে দেয়। আশেপাশের অন্তত ৩ মাইল এলাকার মধ্যে বাইরের পৃথিবীর মানুষের প্রবেশের ব্যাপারেও কড়াকড়ি আরোপ করে ভারতীয় সরকার।

ওই ঘটনার প্রায় এক শতাব্দী আগের কথা। ১৮৮০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলেও এই দ্বীপটির বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেবার দ্বীপের ৬ জন বাসিন্দাকেও তুলে আনা হয়। এরমধ্যে চারজন ছিলো শিশু। প্রাপ্তবয়স্ক দু’জনকে দ্বীপ হতে আনার পরপরই মারা যায়। বাকি বাসিন্দাদের কিছুদিন রাখার পর কোনো তথ্য না পেয়ে তাদের ওই দ্বীপে রেখে আসা হয়।
জানা যায়, ২০০৪ সালের সুনামিতে দ্বীপটির ক্ষয়-ক্ষতি হয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই বাসিন্দারা আবারও সুনামির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে। সুনামির কিছুদিন পর এক হেলিকপ্টার হতে দ্বীপের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।

বর্তমানে দ্বীপটি ভারত সরকারের অধীনে থাকলেও, দ্বীপের অধিবাসীদের জীবনযাত্রায় বহির্জগতের প্রভাবমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্বীপটিতে যেতে বাধা না দেওয়া হলেও, ভারত সরকার বিশেষভাবে সতর্ক করে আসছে দ্বীপটিতে প্রবেশের ব্যাপারে। এক কথায় দ্বীপের বাসিন্দাদের কেও মাড়াতে চান না। তাদের মতো করেই বেঁচে থাকার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চান না স্বয়ং ভারত সরকার। তাই বর্তমানে এই রহস্যময় দ্বীপটির বাসিন্দারা রয়েছেন তাদের মতো করেই। দুনিয়ার মানুষ অন্ধকারেই রইলো এই দ্বীপটিকে নিয়ে।

এক রহস্যময় দ্বীপ ‘টিপিটোওটি হিনুয়া’র গল্প

টিপিটোওটি হিনুয়া
টিপিটোওটি হিনুয়া
নেদারল্যান্ডের নৌ সেনাপতি জ্যাকব রজারভিন আবিষ্কার করেছিলেন জনবিচ্ছিন্ন এই দ্বীপ। সেটি আজকের কথা নয় সেই ১৭২২ খ্রিস্টাব্দের ৫ এপ্রিলের কথা। ওইদিন ছিল ইস্টার সানডে। যে কারণে তিনি এই দ্বীপটির নাম দেন ‘ইস্টার আইল্যান্ড’। এই দ্বীপটি চিলিতে অবস্থিত। কিন্তু এতোবছরেও দ্বীপটির রহস্য ভেদ হয়নি এখনও।


স্থানীয়রা এই দ্বীপটিকে বলে ‘টিপিটোওটি হিনুয়া’, যার অর্থ দাঁড়ায় পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল। এই দ্বীপটি অনেকটা ত্রিকোণ আকৃতির আগ্নেয় শিলা দিয়ে তৈরি। দ্বীপটির আয়তন লম্বায় ২৮.৬ কিলোমিটার আর চওড়ায় ১২.৩ কিলোমিটার।

নেদারল্যান্ডের নৌ সেনাপতি জ্যাকব রজারভিন দ্বীপটিতে নামার পর অবাক হয়ে যান ছড়ানো-ছিটানো শত শত মূর্তি দেখে! তিনি ধারণা করেছিলেন সামুদ্রিক ঝিনুকের খোলের চুর্ণের সঙ্গে বিশেষ এক ধরনের কাদার প্রলেপ দিয়ে মূলত মূর্তিগুলো তৈরি করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে তার সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। সব মূর্তিগুলোই নিরেট কালো ও লালচে পাথরে খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন আকৃতির মূর্তিগুলোর উচ্চতা ৩ হতে ৩০ ফুট পর্যন্ত। এইসব এক একটা মূর্তির ওজন আবার কয়েক টন।

গবেষণা হতে আরও জানা যায়, দ্বীপটিতে আদিবাসীদের বসবাস থাকলেও তাদের দ্বারা ওই মূর্তি বানানো কখনও সম্ভব ছিল না। জ্যাকব রজারভিনের ইস্টার আইল্যান্ডের মূর্তিগুলোর উপাদান ও গঠন শিল্পের সঙ্গে মিসরের পিরামিডের যথেষ্ট মিল রয়েছে। প্রায় ৭ হাজার বছর পূর্বের পিরামিডের সঙ্গে মূর্তিগুলোর মিল সত্যিই অবাক করে দেয়। ঐতিহ্যের কারণে ইউনেস্কো এই দ্বীপটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে এই দ্বীপের প্রকৃত রহস্য এখনও সবার অজানা।



বাসর ঘরের গল্প | বাসর ঘর | basor ghor | nhrepon.com

বাংলা বাসর ঘরের (bangla basor gor) রোমান্টিক গল্প:

বাসর ঘর
Nhrepon

বাসর ঘরে (bashor ghor) ঢুকে পাশে বসতেই
বৌ আমাকে বলল....
----ঘড়িতে তাকিঁয়ে দেখুন তো কয়টা বাজে??
বাসর রাতে বৌয়ের এমন সাহসী প্রশ্নে কিছুটা বিচলিত

হলাম।তখন ঘড়িতে তাকিঁয়ে দেখি রাত ১২.৩০মিঃ।

আমিবৌয়ের পাশে বসে আস্তে করে বললাম.....

----শোনো আমার এখন বিয়ে করার কোন ইচ্ছেই ছিলো
না।আমার বাবা-মায়ের পছন্দেই তোমাকে বিয়ে করেছি।
তবে আমার কারো সাথে কোন সম্পর্ক ও নেই।কিন্তু আমি
বিয়ের জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম না।তাই আমি
এখন চাইলেও এত সহজে তোমাকে বউ হিসেবে মানতে বা
বৌয়ের অধিকার দিতে পারবোনা।
কথা গুলো বলে শেষ করা মাত্র ই
নতুন বউ আমার পাঞ্জাবির কলারটা চেপে ধরে বলল.....
----আমাকে কি খেলার পুতুল মনে হয় নাকি??পছন্দ হয়নি,
বিয়ে করতে চাননি এইটা আগে বলতে পারলেন না??
নিজের মায়ের মন রক্ষা করতে আমার সব আশা-স্বপ্ন কে
কেন বলিদান দিতে হবে?
বিয়ে করার ইচ্ছে নেই,এইটা আমাকে আগে বললেই
পারতেন।তবেই আমি আমার পক্ষ থেকে বিয়ে ভেঙে
দিতাম।মায়ের প্রতি ভন্ড ভক্তি শ্রদ্ধা দেখাতে গিয়ে
আমার জীবনটা কেন এইভাবে নষ্ট করে দিলেন হুম?
আমি তো আপনার কোন ক্ষতি করিনি।এখন আমি
যেভাবে বলব সেভাবেই সব হবে। ঠিক আছে????
বলেই কলার টা ছেড়ে দিলো।পরে আবার বলল....
----আচ্ছা যা হবার তা তো হয়েই গেছে।
দিতে হবে না আপনাকে বউয়ের অধিকার।
যান নিচে গিয়ে ঘুমান।একদম খাটে ঘুমাতে পারবেন না।
বলেই আমার বালিশ পা ফ্লোরে ছুড়ে মারলো।আমি ও
বাধ্য ছেলের মতো ফ্লোরেই শুয়ে পড়লাম।আর মনে মনে
ভাবতে লাগলাম,কেমন গুন্ডি মেয়ে রে বাবা।জীবনেও
এমন মেয়ে দেখিনী।
মনে তো হচ্ছে জীবন পুরাই তেজপাতা করে ছাড়বে।
.
ফ্লোরে ঘুমই আসছেনা।কখনই ফ্লোরে ঘুমাই নি।কিন্তু
আজকে নিজের অমতে বিয়ে করার কারনেই ফ্লোরে
ঘুমাতে হচ্ছে।
এর মধ্যে মশার আন্দোলন। ইসসসসসস,,,,,,সহ্য হচ্ছেনা।চোখ
বন্ধ শুয়ে করে আছি।কখন জানি ঘুমটা লেগে গেছে
বুঝতেই পারিনি।হঠাৎই সজাগ হয়ে দেখি আমার শরীরে
কম্বল আর পাশে ও মশার কয়েল লাগানো।মনটাতে একটু
স্বস্তি পেলাম,চোর হলেও মানুষ ভালো।
মনে মায়া-দয়া আছে।
.
পরের দিন ঘুম থেকে উঠেই দেখি টেবিলে চা রাখা।চা
খেয়ে,ফ্রেশ হয়ে রুমে বসে ফোন টিপছিলাম তখন ই
তানিয়া (আমার বৌ)এসে বললো.....
----এইযে সেই কতক্ষন যাবত খাবার নিয়ে সবাই অপেক্ষা করছে 
আর আপনি ঘরে বসে আছেন কেন?এখনি নিচে চলুন আগে......??বলেই আমার কানের কাছে এসে আস্তে করে
বললো...
-----নাকি খাবার টা রুমে নিয়ে আসবো?
আমি তো হার্ট এ্যাটাক হতে হতে বেচেঁ গেছি।আমি তো
ভাবছিলাম,বউ বুঝি এইবার ও কলার ধরেই আমাকে খাবার
টেবিলে নিবে।কিন্তু না,বউয়ের স্বর পাল্টে গেছে,তবে
কি বউ আমার প্রেমে পড়ে গেল নাকি??কথাটা ভাবতে
ভাবতেই বউয়ের দিকে তাকালাম।হা হয়ে তাকিঁয়ে
আছি,বউ তো আমার হেব্বি সুন্দরী।রাতে তো ভাবছিলাম
হিটলারনি।এখন দেখি না মায়াময়ী।এইবার যে আমি
বউয়ের প্রেমে পড়ে গেলাম।নিজেই নিজেকে বললাম...
----পিন্টু মনে হয় তুই তোর হিটলারনি বউয়ের প্রেমে পড়ে
গেছিস।
.
হঠাৎ একটা বিকট শব্দে বাস্তবে ফিরলাম।
সামনে তাকিঁয়ে বউ আমার ফ্লোরে পরে চোখ বন্ধ করে
আছে।বুঝতে পারলাম,পাগলীটা খুবই ব্যথা পাইছে।
দৌড়ে গিয়ে টেনে তুলে বসাতে গেলাম আর অমনি
আস্তে করে বলল.....
----কেমন স্বামী গো আপনি??
আমি তো একটু ভ্যাবাচ্যকা খেয়ে গেলাম।
বললাম...
----আমি আবার কি করলাম।
বৌ বলল....
----আমি মাটিতে পরে আছি কই কোলে করে নিয়ে
বিছানায় শোয়াবেন,তা না করে আমার হাত ধরে
টানছেন।
সাথে সাথেই আমি কোলে করে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে
দিলাম।
আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল....
----ইচ্ছে করে এইভাবে ই ধরে রাখি সারাটা জীবন।কিন্তু
আপনি তো আমাকে পছন্দই করেন না।
কথা শেষ করেই তানিয়া দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো।
আমারও বুকের ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে গেল।আমারো খুব বলতে ইচ্ছা হচ্ছিল *
কপালে একটা চুমো একেঁ দিয়ে বলি ...
----পাগলী আমি যে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি
গো।
কিন্তু পারলাম না।কোথায় জানি একটা বাধাঁ
পাচ্ছিলাম।এই সুযোগে তানিয়া আমাকে ঠেলে
বিছানায় ফেলে দিয়ে দৌড়ে পালালো।আমি শুধু ওর
চলে যাওয়ার পানে তাকিঁয়ে রইলাম।পরক্ষনেই খেয়াল
হলো,ও তো ব্যথা পাইছে।যার কারনে কোলে করে
উঠাতে হলো।বুঝতে আর বাকি রইলো না,এইবার ও
আমাকে বোকা বানানো হয়েছে।
.
পাগলিটার সাথে খুনসুটি প্রেম করতে করতেই কেটে গেল
২টা বছর।এখন কেউ কাউকে ছাড়া কিছু ভাবতেই পারিনা।
আমার পাগলীটা এখন গর্ভবতী।
তাই খুব যত্ন নেই তার।আজকেই বাচ্চা হবার তারিখ
দিয়েছে ডাক্তার।
আমি অফিসে ছিলাম,হঠাৎই বাবার ফোন পেয়ে ছুটে
গেলাম হসপিটাল।গিয়েই শুনলাম আমার ঘর আলো করে
এসেছে এক ছোট্ট রাজকন্যা।
কিন্তু....
আমার পাগলিটার কোন সাড়া শব্দ পাচ্ছিনা কেন??ভয়ে
আৎকে উঠলাম।অনেকের মুখেই শুনেছি,বাচ্চা জন্ম দিতে
গিয়ে মারা গেছে অনেক মা।সে ভয়েই বাচ্চা নিতে
চাইনি।কিন্তু ওর নাকি বাচ্চা লাগবেই।
ওর ইচ্ছে পূরন করতে গিয়েই কি তবে......???
আর ভাবতেই পারছিনা।
আর একটা মিনিট ও নষ্ট না করে,দৌড়ে গেলাম কেবিনে।
গিয়ে দেখি বাচ্চা টা হাত পা নাড়িয়ে খেলছে।
কিন্তু তানিয়া চোখ বন্ধ করে রাখছে।
ওর নিঃশ্বাস আছে কি নাই তা দেখার মতো ধৈর্য আমার
ছিলোনা।তাই তানিয়াকে জড়িয়ে চিৎকার দিয়ে
ফেললাম।
সাথে সাথেই কানের কাছে একটু ব্যথা অনুভব করলাম।
পরে দেখি তানিয়া আমার আস্তে করে কানে কামড়
দিয়ে বলল....
-----কি ভাবছিলা তোমাকে একা রেখে চলে যাবো??
আরে না গো,আমি চলে গেলে,তোমাকে জ্বালাবে
কে??
আমিও বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখলাম।আর
বললাম,বড্ড ভালোবাসি রে পাগলি তোকে।ছাড়বোনা
কখনই।


 .........সংগৃহীত..........