Showing posts with label বাংলা কবিতা. Show all posts
Showing posts with label বাংলা কবিতা. Show all posts

আদর্শ ছেলে | Adorsho chele - amader deshe hobe sei chele kobe | Nhrepon.com




আদর্শ ছেলে 

কুসুমকুমারী দাশ

আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
'মানুষ হইতে হবে'- এই তার পণ।

বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান
নাই কি শরীরে তব রক্ত, মাংস, প্রাণ?
হাত পা সবারই আছে, মিছে কেন ভয়?
চেতনা রয়েছে যার, সে কি পড়ে রয়?

সে ছেলে কে চাই বল, কথায় কথায়
আসে যার চোখে জল, মাথা ঘুরে যায়?
মনে প্রাণে খাট সবে, শক্তি কর দান,
তোমরা 'মানুষ' হলে দেশের কল্যাণ।










নবীর শিক্ষা | nobir shikkha | bangla kobita | nhrepon.com

নবীর শিক্ষা

শেখ হাবিবুর রহমান


তিন দিন হ'তে খাইতে না পাইনাই কিছু মোরে ঘরে,
সারা পরিবার বাড়িতে আমার উপোস করিয়া মরে।
নাহি পাই কাজ তাই ত্যাজি লাজ বেড়াই ভিক্ষা করি,
হে দয়াল নবীদাও কিছু মোরে নহিলে পরাণে মরি।


আরবের নবীকরুণার ছবি ভিখারির পানে চাহি,
কোমল কণ্ঠে কহিল, -'তোমার ঘরে কি কিছুই নাহি?
বলিল সে, 'আছে শুধু মোর কম্বল একখানি।'
কহিল রসুল, 'এক্ষণি গিয়া দাও তাহা মোরে আনি।'


সম্বল তার কম্বলখানি বেচিয়া তাহার করে,
অর্ধেক দাম দিলেন রসুল খাদ্য কেনার তরে,
বাকি টাকা দিয়া কিনিয়া কুঠারহাতল লাগায়ে নিজে,
কহিলেন, 'যাও কাঠ কেটে খাওদেখ খোদা করে কি-যে।'


সেদিন হইতে শ্রম সাধনায় ঢালিল ভিখারি প্রাণ,
বনের কাষ্ঠ বাজারে বেচিয়া দিন করে গুজরান।
অভাব তাহার রহিল না আরহইল সে সুখী ভবে,


নবীর শিক্ষা ক'রো না ভিক্ষা, মেহনত কর সবে।



নিশিতে যাইও ফুলবনে রে ভোমরা | nishite jaio fulo bone | Nhrepon.com

নিশিতে যাইও ফুলবনে

- জসীমউদ্দীন
বাংলা কবিতা
নিশিতে যাইও ফুলবনে - জসীম উদ্দিন


নিশিতে যাইও ফুলবনে
রে ভোমরা
নিশিতে যাইও ফুলবনে।
জ্বালায়ে চান্দের বাতি
আমি জেগে রব সারা রাতি গো;
কব কথা শিশিরের সনে
রে ভোমরা!
নিশিতে যাইও ফুলবনে।



যদিবা ঘুমায়ে পড়ি-
স্বপনের পথ ধরি গো,
যেও তুমি নীরব চরণে
রে ভোমরা!
আমার ডাল যেন ভাঙে না,
আমার ফুল যেন ভাঙে না,
ফুলের ঘুম যেন ভাঙে না।
যেও তুমি নীরব চরণে
রে ভোমরা!
নিশিতে যাইও ফুলবনে।




কাব্যগ্রন্থ: রঙিলা নায়ের মাঝি







collected from : bangla-kobita.com

শিক্ষকের মর্যাদা - কাজী কাদের নেওয়াজ | Bangla kobita | Nhrepon.com

শিক্ষকের মর্যাদা

 কাজী কাদের নেওয়াজ




শিক্ষকের মর্যাদা
শিক্ষকের মর্যাদা



 বাদশাহ আলমগীর-
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর।
একদা প্রভাতে গিয়া
দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে
পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি
ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি।

শিক্ষক মৌলভী

ভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি।
দিল্লীপতির পুত্রের করে
লইয়াছে পানি চরণের পরে,
স্পর্ধার কাজ হেন অপরাধ কে করেছে কোন্ কালে!
ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তার ভালে।

হঠাৎ কি ভাবি উঠি
কহিলেন, আমি ভয় করি না'ক, যায় যাবে শির টুটি,
শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার
দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার,
ভয় করি না'ক, ধারি না'ক ধার, মনে আছে মোর বল,
বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল।
যায় যাবে প্রাণ তাহে,
প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব শাহানশাহে।

তার পরদিন প্রাতে
বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে।
খাস কামরাতে যবে
শিক্ষকে ডাকি বাদশা কহেন, ''শুনুন জনাব তবে,
পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে?

বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা,
নহিলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকাল বেলা''
শিক্ষক কন-''জাহপানা, আমি বুঝিতে পারিনি হায়,
কি কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায়?''

বাদশাহ্ কহেন, ''সেদিন প্রভাতে দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে
নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন,
পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ।

নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে
ধুয়ে দিল না'ক কেন সে চরণ, স্মরি ব্যথা পাই মনে।''


উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষকে আজি দাঁড়ায়ে সগৌরবে
কুর্ণিশ করি বাদশাহে তবে কহেন উচ্চরবে-
''আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির,
সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।''













আসমানী - জসীমউদ্দীন | Bangla kobita | Nhrepon.com

আসমানী

জসীম উদ্দীন

asmani-bangla-kobita
Bangla kobita asmani


জসীম উদ্দীন একজন বাঙালি কবি, গীতিকার, ঔপন্যাসিক ও লেখক।

জন্ম: ১ জানুয়ারি ১৯০৩ খ্রী:
মৃত্যু: ১৩ মার্চ ১৯৭৬ খ্রী:
পূর্ণনাম: মোহাম্মাদ জসীম উদ্দীন মোল্লা।
জন্মস্থান: ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
বাবার নাম: আনসার উদ্দীন মোল্লা। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন।
মায়ের নাম: আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুট।
পারিবারিক পরিচিতি: তার বাবার বাড়ি ফরিদপুর জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।



asmani-bangla-kobita

পল্লীকবি জসীমউদ্দীন 'আসমানী' কবিতাটি ১৯৪৬ সালে রচনা করেন। কবিতাটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত কবির 'এক পয়সার বাঁশী' কাব্য গ্রন্থে স্থান পায়।






আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।

একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,
তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে।
পেটটি ভরে পায় না খেতে, বুকের ক-খান হাড়,
সাক্ষী দিছে অনাহারে কদিন গেছে তার।

মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ-রাশি
থাপড়েতে নিবিয়ে দেছে দারুণ অভাব আসি।
পরনে তার শতেক তালির শতেক ছেঁড়া বাস,
সোনালি তার গা বরণের করছে উপহাস।

ভোমর-কালো চোখ দুটিতে নাই কৌতুক-হাসি,
সেখান দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু রাশি রাশি।
বাঁশির মতো সুরটি গলায় ক্ষয় হল তাই কেঁদে,
হয় নি সুযোগ লয় যে সে-সুর গানের সুরে বেঁধে।

আসমানীদের বাড়ির ধারে পদ্ম-পুকুর ভরে
ব্যাঙের ছানা শ্যাওলা-পানা কিল্-বিল্-বিল করে।
ম্যালেরিয়ার মশক সেথা বিষ গুলিছে জলে,
সেই জলেতে রান্না-খাওয়া আসমানীদের চলে।

পেটটি তাহার দুলছে পিলেয়, নিতুই যে জ্বর তার,
বৈদ্য ডেকে ওষুধ করে পয়সা নাহি আর।





আবৃত্তি দেখতে ভিডিওতে ক্লিক করুন।

আবৃত্তি করেছেন: তাহিরা তাবাস্সুম

সংগ্রহ করা হয়েছে বাংলা কবিতা.কম  এবং আলকামা.কম থেকে।

কাজের লোক | Kajer lok | bangla kobita | nhrepon.com

কাজের লোক

নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য



“মৌমাছি, মৌমাছি,
কোথা যাও নাচি' নাচি'
দাঁড়াও না একবার ভাই।''
“ওই ফুল ফোটে বনে,
যাই মধু আহরণে
দাঁড়াবার সময় তো নাই।''


“ছোট পাখি, ছোট পাখি,
কিচি-মিচি ডাকি ডাকি'
কোথা যাও বলে যাও শুনি?''
“এখন না ক'ব কথা,
আনিয়াছি তৃণলতা,
আপনার বাসা আগে বুনি।''


“পিপীলিকা, পিপীলিকা,
দল-বল ছাড়ি একা
কোথা যাও, যাও ভাই বলি।''
“শীতের সঞ্চয় চাই,
খাদ্য খুঁজিতেছি তাই
ছয় পায়ে পিল পিল চলি।''






"পারিব না" বাংলা কবিতা | Bangla kobita | Nhrepon.com

পারিব না

কালী প্রসন্ন ঘোষ


পারিব না এ কথাটি বলিও না আর

কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার,

পাঁচজনে পারে যাহা,

তুমিও পারিবে তাহা,

পার কি না পার কর যতন আবার

এক বারে না পারিলে দেখ শত বার।



পারিব না বলে মুখ করিও না ভার,

ও কথাটি মুখে যেন না শুনি তোমার,

অলস অবোধ যারা

কিছুই পারে না তারা,

তোমায় তো দেখি নাক তাদের আকার

তবে কেন পারিব না বল বার বার?



জলে না নামিলে কেহ শিখে না সাঁতার

হাঁটিতে শিখে না কেহ না খেয়ে আছাড়,

সাঁতার শিখিতে হলে

আগে তব নাম জলে,

আছাড়ে করিয়া হেলা, হাঁট বার বার

পারিব বলিয় সুখে হও আগুয়ান।


"তোমার রুমাল" বাংলা কবিতা | Bangla kobita | Nhrepon.com



রুমাল

( তুমি যেটি দিলে)

তোমার রুমাল নয় গো, যেন তুমিই মোর পকেটে,
সুরসুরি লাগে মোর ‍দিলে তোমার হাসির ও দাপটে।
তুমি সদা থাক মোর মনের ও ভিতরে,
একটু ভালোবাসা ‍দিও সোহাগ ও আদরে।

পাশে রবে কি সখি তুমি মোর জিবনের ও তরে?
কত্ত ভালোবাসবো তোমায় হৃদয় উজাড় করে।
তুমি আমার মিষ্টি টিয়া ভালোবাসার কয়তরী,
ইচ্ছে করে বুকে লইয়া একটু আদর করি।

সোনা মুখে সোনা হাসি দেখবো আজীবন,
আদর সোহাগ ‍দিব তোমায় করিয়া যতন।
মিষ্টি মধুর শ্যামল কইন্না আর থেকো না দূরে,
অতি শিঘ্রই বুকের মানিক এসো মনের ঘরে।

বকের খাঁচায় তোমায় সখি বন্দি রাখিব,
কোন দিন ও তোমায় আমি নাহি হারবো।
¯^M© সুখে মধুর রসে ভরবে গো জীবন,
কোন ‍দিন ও হারিয়ে হবে গো মরণ।


"উপদেশ" বাংলা কবিতা | Bangla kobita | Nhrepon.com

উপদেশ

স্বর্ণকুমারী দেবী


বড়লোক যদি তুমি হতে চাও ভাই,

ভালো ছেলে তাহা হ'লে আগে হওয়া চাই।

মন দিয়ে, পড় লেখো

সুজন হইতে শেখ,

খেলার সময় রেখ, তাতে ক্ষতি নাই।


পিতামাতা গুরুজনে দেবতুল্য জানি,

যতনে মানিয়া চল তাঁহাদের বাণী।


ভাইটি করেছে দ্বন্দ্ব,

বোনটি বলেছে মন্দ,

ক্রোধে হয়ো না কো অন্ধ, স্নেহে ধর পাণি।











সংকল্প | Songkolpo bangla kobita | Nhrepon.com

সংকল্প

কাজী নজরুল ইসলাম


থাকব না'ক বদ্ধ ঘরে

দেখব এবার জগৎটাকে।

কেমন করে ঘুরছে মানুষ

যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।


দেশ হতে দেশ দেশান্তরে

ছুটছে তারা কেমন করে,

কিসের নেশায় কেমন করে

মরছে যে বীর লাখে লাখে।


কিসের আশায় করছে তারা

বরণ মরণ যন্ত্রণাকে

কেমন করে বীর ডুবুরি

সিন্ধু সেঁচে মুক্তা আনে,

কেমন করে দুঃসাহসী

চলছে উড়ে স্বর্গপানে।


হাউই চড়ে চায় যেতে কে

চন্দ্রলোকের অচিনপুরে,

শুনব আমি, ইঙ্গিতে কোন

মঙ্গল হতে আসছে উড়ে।


পাতাল ফেড়ে নামব আমি

উঠব আমি আকাশ ফুঁড়ে,

বিশ্বজগৎ দেখব আমি

আপন হাতের মুঠোয় পুরে।
















​প্রিয় স্বপ্ন | favorite dream | bangla kobita | Nhrepon.com


​প্রিয় স্বপ্ন

(শুধুই তুমি)


তোমার ঐ দুষ্টমী মাখা মুক্ত ঝরা মিষ্টি হাসিটা আমার পৃথিবী রাঙিয়ে দেয়,
তোমার ঐ হরিণী সাদৃশ চোখের গহীনে জানিনা মন হারায় কোন অজানায়।

তোমার শূভ্রের ন্যায় বদনখানি ভেবে আামার কেটে যায় বেলা,
ওগো প্রেয়সী মোর অকৃত্রিম ভালোবাসা নিয়ে তুমি করোনা খেলা।

কতো ভালোবাসি তোমায় শুধু এই হৃদয় জানে,
ওগো ললনা এসোনা একবার বুকেরি মাঝখানে।